লিঙ্গবৈষম্য রোধ করে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে উচ্চশিক্ষা ও গুণগত শ্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি (প্রশাসন) ড. সায়মা হক বিদিশা।
সোমবার (১১ নভেম্বর) বণিক বার্তা আয়োজিত তৃতীয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূলে বারবার বৈষম্যের কথা উঠে এসেছে। সরকারি চাকরি, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রসহ অনেক ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার জন্য শুরু হয়েছিল এ আন্দোলন।
ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, আমি মূলত এ খাতের লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে কথা বলব। গত কিছু বছরে শ্রমবাজারের লিঙ্গ বৈষম্য কমে এসেছে, ৪২ শতাংশ নারী এখন শ্রমবাজারে অংশ নিচ্ছেন যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়লেও শহরে নারীদের অংশগ্রহণ কমেছে কিছুটা। অনানুষ্ঠানিক কাজগুলো করছেন ৯৬ শতাংশ নারী, যেখানে পুরুষের পরিমাণ কম। এদিকে কম মজুরিতে বেশি পরিশ্রম ও নিরাপত্তাহীন কাজগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ বেশি হলেও ম্যানেজারিয়াল কাজে নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ৭.৩ শতাংশ। অর্থাৎ গুণগত কাজে নারীর অংশগ্রহণ অনেক কম।
তিনি বলেন, নারীদের ক্যাপিটাল ম্যানেজ করে স্বপ্রণোদিত উদ্যোগে বিনিয়োগের হারও অনেক কম। এছাড়াও উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশের নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ অনেক সীমিত, বিশেষ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণা খাতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো তেমন বাড়েনি। অথচ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় পুরুষের সমান। উচ্চশিক্ষায় নারীদের এ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়াকে আটকানোর জন্য নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বেশি সুযোগ সুবিধা রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক চাহিদা যেমন আবাসন, যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা লাগবে। উচ্চশিক্ষায় ও গুণগত শ্রমের জায়গায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলেই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।